ডায়রিয়ায় কী ওষুধ খাবেন?

হঠাৎ ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা হলে অনেকে এটি থামাতে নানা ধরনের ওষুধ খেতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আসলে বেশির ভাগ ডায়রিয়ায় কোনো ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন নেই। কেবল যে পানি ও লবণ শরীর থেকে বেরিয়ে যায়, সেটা খাওয়ার স্যালাইন দিয়ে পূরণ করলেই চলবে। বেশির ভাগ ডায়রিয়া নিজে থেকেই সেরে যায়।

তবে বাজারে ডায়রিয়া বন্ধ করার কিছু ওষুধ প্রচলিত আছে। দোকানে গেলে দোকানি এগুলো ধরিয়ে দেন। অনেকে শুনে শুনে খান। যেমন লপেরামাইড, কোডিন-জাতীয় ওষুধ। অনেকে আবার সিপ্রোফ্লক্সাসিন বা অ্যাজিথ্রোমাইসিন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে ফেলেন। ফ্লাজিল বা মেট্রোনিডাজলও খুব প্রচলিত। কিন্তু মনে রাখবেন, প্রয়োজন ছাড়া এগুলো খাওয়া ঠিক নয়।

লপেরামাইড হলো অ্যান্টিমটিলিটি ওষুধ। মানে এটি খেলে অন্ত্রের চলন কমে যায়, ফলে বারবার টয়লেটে যাওয়ার প্রবণতা কমে। কিন্তু এটি ডায়রিয়া সারাতে সাহায্য করে এমন কোনো প্রমাণ নেই। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ ধরনের ওষুধ খাওয়া বারণ। যেমন ১২ বছর বয়সের নিচে শিশুর যদি ডায়রিয়ার সঙ্গে জ্বর বা পেট কামড়ানো থাকে, পেট ফুলে যাওয়া বা আলসারেটিভ কোলাইটিস-জাতীয় রোগে। এ ছাড়া এ ধরনের ওষুধ খেলে মাথা ঘোরা, মাথা হালকা বোধ হওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি হতে পারে।

উল্টো দিকে সিপ্রোফ্লক্সাসিন, মেট্রোনিডাজল বা অ্যাজিথ্রোমাইসিন ইত্যাদি হলো অ্যান্টিবায়োটিক। আমরা জানি যে বেশির ভাগ ডায়রিয়াই হলো ভাইরাসজনিত, কখনো কখনো ফুড পয়জনিংয়ের কারণে হয়ে থাকে। এ ধরনের ডায়রিয়া এমনিতেই সারে। কোন ধরনের ডায়রিয়ায় অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হবে, তার স্পষ্ট নির্দেশিকা আছে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া উচিত।

তার মানে সাধারণ ডায়রিয়ায় কোনো ওষুধপত্র না খেয়ে বিশ্রাম নিন, বারবার খাওয়ার স্যালাইন বা ডাবের পানি পান করুন, বেশি করে তরল খান। এটাই যথেষ্ট।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url