শ্যামলা / কালো ত্বক ফর্সা করার উপায় । চেহারায় সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার উপায়
ত্বক ফর্সা হওয়ার ইচ্ছা নতুন কিছু নয়, আমরা সকলেই চাই আমাদের ত্বক ফর্সা উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত থাকুক। হরেক রকম পণ্য ব্যবহার এর পাশাপাশি জেনে রাখুন কয়েকটি টিপস যা আপনার ত্বককে করে ফর্সা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে। আমাদের আজকের ব্লগে আমরা এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান নিয়ে আলোচনা করবো, যা ত্বকের প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। আমাদের আজকের প্রাকৃতিকভাবে কালো থেকে ফর্সা হওয়ার ঘরোয়া উপায় এর মাধ্যমে, আপনি আপনার ত্বককে করতে পারবেন উজ্জ্বলময় ও ফর্সা।
শ্যামলা ত্বকে বলিরেখা দেখা দেয় অনেক দেরিতে।কিন্তু ব্রণ বা রোদের কারণে সানবার্ন হয় তাড়াতাড়ি।একটু উজ্জ্বল ত্বকের স্বপ্ন প্রত্যেকেই দেখে। বেশি জল খাওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন নিয়ম মেনে ক্লিনজিং-টোনিং-ময়েশ্চারাইজিং করলেও গায়ের শ্যামলা রং খুব সহজেই ফর্সা বা উজ্জ্বল হয় না।কারণ, এই ধরনের ত্বকে আর্দ্রতায় ঘাটতি পড়লে তা খুব তাড়াতাড়ি বোঝা যায়।ত্বকে সাদা সাদা দাগ পড়ে সে ক্ষেত্রে।
শ্যামলা ত্বকের পরিচর্চায় ঘরোয়া নানা জিনিস ব্যবহার করতে পারেন। এক্ষেত্রে হলুদ ও মধুর ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।ত্বক চকচকে করে হলুদ ব্যবহার করলে।বাজার চলতি ফরসা হওয়ার ক্রিম ব্যবহার করবেন না। তার বদলে ব্যবহার করুন এই ঘরোয়া উবতান।
এক চামচ হলুদগুঁড়োকে ফ্রাইপ্যানে দিয়ে নাড়াচাড়া করতে থাকুন।ভাল মত ভাজা হলে হলুদের রং কফির মতো বাদামী রঙের হয়ে যায়।ভাজা হয়ে গেলে একটি পাত্রে নামিয়ে ঠাণ্ডা করতে দিন।ঠান্ডা হয়ে গেলে হলুদের সঙ্গে দু'চামচ মধু দিয়ে দিন।ভাল মতো মিশিয়ে মুখে মাখুন।চোখের ডার্ক সার্কেল দূর করতেও মোক্ষম দাওয়াই এই পদ্ধতি।
পাঁচ মিনিট রেখে শুকিয়ে গেলে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। শ্যামলা রঙের কেও টানা সাতদিন এই ঘরোয়া হলুদের প্যাক ব্যবহার করলে তার গায়ের রং উজ্জল হবেই।
হলুদে আছে কারকিউমিন নামক একটি উপাদান।যা অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হিসেবে কাজ করে।কিন্তু অনেকেই মনে করেন ত্বকচর্চার ক্ষেত্রে শুধু কাঁচা হলুদ ব্যবহার করাই ভাল।কিন্তু ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে কাঁচা হলুদ হাতের কাছে মজুত না থাকলেও, গুঁড়ো হলুদ দিয়েও কিন্তু একই ভাবে ত্বকের পরিচর্যা করা যেতে পারে।
ত্বক পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখতে পারে মধু।এতে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ফাঙ্গাল উপাদান।বহু ধরনের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টও রয়েছে এতে।সব মিলে ত্বক থেকে জীবাণু দূর করে আবার ত্বক আর্দ্রও রাখে।প্রোবায়োটিক ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ত্বকে পুষ্টি জোগায়।তাতে ত্বক মসৃণ ও টানটান থাকে।দাগছোপ কম পড়ে ফলে ত্বকে বার্ধক্য আসে দেরিতে।
নানা কারণে আমাদের ত্বক কালচে হতে থাকে। তাই ত্বককে দূষণ ও সূর্যের রশ্মি থেকে রক্ষা করা উচিত। ঘরে থাকা বিভিন্ন পরিচিত ও উপকারী উপাদানের মাধ্যমে নিয়মিত যত্ন নিলে খুব সহজেই ত্বক উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। প্রতিদিনের ব্যস্ততার ফাঁকে একটুখানি সময় বের করে নিজের যত্ন নিন। এতে ত্বক সুন্দর হবে, ভালো থাকবে মনও। চলুন জেনে নেওয়া যাক গায়ের রং উজ্জ্বল করার ঘরোয়া ৫ উপায়-
লেবুর ব্যবহার
একটি লেবু নিন। এরপর লেবুটি কেটে রসটুকু বের করে নিন। সেখান থেকে দুই চা চামচ লেবুর রস নিয়ে এক চা চামচ পানিতে মেশান। এবার মিশ্রণটি ত্বকের যেখানে দাগ আছে সেখানে ব্যবহার করুন। লেবুর রসের সঙ্গে সম পরিমাণ মধু মিশিয়েও ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন। মিশ্রণটি ব্যবহারের পর মিনিট দশেক অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলতে হবে। মিশ্রণটি ত্বকের উপযোগী কি না তা বোঝার জন্য ব্যবহারের আগে গলায় বা কানের পেছনে লাগিয়ে দেখবেন। যদি কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা না যায় তাহলে ব্যবহার করবেন।
লেবুতে আছে ভিটামিন সি যা ত্বকের সব ধরনের দাগ-ছোপ পরিষ্কার করতে পারে। ফলে ত্বক স্বচ্ছ হয় এবং ত্বকের শুষ্কতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। যে কারণে ত্বক হয়ে ওঠে আরও উজ্জ্বল। লেবুর ব্লিচিং উপাদান ত্বককে ভেতর থেকে দাগমুক্ত করে। সেইসঙ্গে রোদে পোড়া দাগ সহজেই দূর হয়।
হলুদের ব্যবহার
এক চা চামচ কাঁচা হলুদ বেটে বা হলুদ গুঁড়া নিন। তার সঙ্গে নিন দুই চা চামচ লেবুর রস। উপাদান দুটি ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি মুখে ভালোভাবে মেখে নিন। সূর্যের তাপের কারণে ত্বকের যে স্থান কালচে হয়ে গেছে সেখানে ব্যবহার করুন। এভাবে পনেরো মিনিট রাখার পর হালকা গরম পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। সপ্তাহে দুইবার এভাবে ব্যবহার করুন। এভাবে নিয়মিত ব্যবহার করলে এক মাসের মধ্যেই সুফল পেতে শুরু করবেন।
হলুদের অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল এবং আন্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান ত্বককে সব ধরনের জীবাণু থেকে দূরে রাখে। সেইসঙ্গে ত্বককে দ্রুত ফর্সা করতে কাজ করে হলুদ। ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে এই ভেষজ উপাদান। হলুদ আমাদের ত্বকে বয়সের ছাড় পড়তে বাধা দেয়। ফলে ত্বক টানটান থাকে অনেকটাই। ত্বকে ব্যবহারের পাশাপাশি খালি পেটে এক টুকরো কাঁচা হলুদ খেতে পারলে সেটিও আপনার শরীর থেকে টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করবে।
দুধের ব্যবহার
এক টেবিল চামচ দুধ ও এক চা চামচ মধু নিন। এরপর দুধ ও মধু ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। মেশানো হয়ে গেলে মিশ্রণটি মুখে ভালোভাবে লাগিয়ে নিন। এরপর পনেরো মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে হালকা গরম পানিতে ধুয়ে নিন। এটি প্রতিদিন ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন। তাতে ত্বক দ্রুত উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।
দুধে থাকা প্রাকৃতিক উপাদানগুলো ত্বকের রংকে ভেতর থেকে হালকা করে। সেইসঙ্গে এটি ত্বককে বাইরে থেকে আর্দ্র এবং মসৃণ করে তোলে। প্রতিদিন ব্যবহারের ফলে ত্বক আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
টমেটোর ব্যবহার
দুটি টমেটো ও দুই চা চামচ লেবুর রস নিন। টমেটো ব্লেন্ড করে রসটুকু বের করে নিন। এরপর পরিমাণ মতো টমেটোর রস নিয়ে লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এবার মিশ্রণটি পুরো মুখে লাগিয়ে মিনিট বিশেক অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে এলে পরিষ্কার পানিতে মুখ ধুয়ে নিন। প্রতিদিন গোসলের আগে এটি ব্যবহার করতে পারেন। এতে রোদে পোড়া দাগ কমে যাবে।
টমেটো ত্বকের দাগ কমিয়ে ত্বককে ফর্সা এবং উজ্জ্বল করে তুলতে পারে। লাইকোপিন নামক উপাদান ত্বকে আর্দ্রতা বাড়াতে সাহায্য করে। ত্বকের উপরে জমে থাকা মৃত কোষ দূর করে ত্বককে দ্রুত উজ্জ্বল করে তোলে।
দইয়ের ব্যবহার
দুই টেবিল চামচ টক দই ও এক চা চামচ মধু নিন। এই দুই উপাদান ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এরপর পরিষ্কার ত্বকে মিশ্রণটি ব্যবহার করুন। পনেরো মিনিট অপেক্ষা করে পরিষ্কার পানিতে মুখ ধুয়ে নিন। এটি ত্বককে দ্রুত উজ্জ্বল করে তুলবে।
দই আমাদের ত্বকের ক্ষুদ্র লোমকূপে জমে থাকা ময়লা দূর করতে সাহায্য করে। ফলে ত্বক গভীর থেকে পরিষ্কার হয়। প্রতিদিন ত্বকে টকদই ব্যবহার করলে তা ত্বককে ফর্সা করে তোলে। ত্বকে ব্যবহারের পাশাপাশি টক দই খেলেও উপকার পাবেন।
